মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
রাজশাহী থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ হাসিনার ‘রাজাকারের বাচ্চা’ মন্তব্যে উত্তাল ক্যাম্পাস ইরাকের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প বন্যায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে, চট্টগ্রামে ৭ দিনে কামড়ের শিকার ৯৩ জন গালর্স কলেজে শিক্ষকতা করায় পদ হারালেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ভূমিধসের সতর্কতা থামছে না পাহাড়ে বানভাসিদের কান্না মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত শাহমিজ বকুলকে মেহেরপুর জেলা সমিতির শুভেচ্ছা মেহেরপুর জেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদকে ফুলেল শুভেচ্ছা

ইরাকের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

ইরাকের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠককে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ইরাকের দুই প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পটভূমিতে জাইদির এই ওয়াশিংটন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূরাজনীতিবিদেরা। দুই দেশের বৈরিতা দীর্ঘকাল ধরে ইরাককে একটি প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে, যার ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে বাগদাদের একের পর এক সরকারকে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী জাইদির প্রথম বিদেশ সফর। সোমবার ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর এক সপ্তাহের এই সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জ্বালানি তেল কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা

ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা জাইদি চলতি বছর মার্কিন সমর্থনে ইরাকের ক্ষমতায় বসেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি ইরাকের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং মার্কিন স্থাপনায় হামলাকারী ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাক্কালে বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে জাইদি উল্লেখ করেন: ‘আমি এমন একটি সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছি, যা দেশে শক্তির বৈধ ব্যবহারের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তার সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, যা ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের মিশন সমাপ্তির সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।

তবে ইরাকের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার অর্থনীতির স্বার্থে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও এর অর্থ এই নয় যে ইরাক ইরানের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। ইরাককে অবশ্যই তার দুই মিত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে।’

নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা

ইরাকি সরকারের বিশ্বাস, দেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য আইনশৃঙ্খলার ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বেশ জটিল।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নগদ অর্থ ছাড়: সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের চাপ হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে ইরাকের জ্বালানি তেলের রাজস্বের নগদ অর্থ ছাড় সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল ওয়াশিংটন। তবে জাইদির নীতিতে সমর্থন জানিয়ে সম্প্রতি এই অর্থ ছাড় পুনরায় শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।

সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনড় অবস্থান: কিছু গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও অনেকেই অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামক ইরানপন্থি সশস্ত্র জোট জাইদির এই মার্কিন সফরের তীব্র বিরোধিতা করে একে ‘সামরিক আগ্রাসনের বদলে অর্থনৈতিক আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা

দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ, সহিংসতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরাকের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাত অত্যন্ত নাজুক।

নতুন চুক্তি: এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাইদি মার্কিন জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেশ কিছু বড় চুক্তি সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য চুক্তি হলো—ইরাকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সহায়তার বিনিময়ে দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল একটি বিশেষ ফান্ডে জমা রাখবে বাগদাদ।

অর্থনৈতিক ঝুঁকি: ইরাকের বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ আয় আসে তেল রপ্তানি থেকে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ওপেকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এই দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ তাদের সিংহভাগ তেল রপ্তানি হয় বিতর্কিত ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে।

এই পরিস্থিতিতে জাইদির ওয়াশিংটন সফর ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তথ্যসূত্র: এএফপি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved Meherpur Sangbad © 2025