শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ভূমিধসের সতর্কতা থামছে না পাহাড়ে বানভাসিদের কান্না মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত শাহমিজ বকুলকে মেহেরপুর জেলা সমিতির শুভেচ্ছা মেহেরপুর জেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার’ গাংনীতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এমপি তাজউদ্দীন খানের নিরলস প্রচেষ্টার ফল: রেলপথ পাচ্ছে মেহেরপুর মেহেরপুর জেলা সমিতির উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী, বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মেহেরপুর জেলা সমিতি, ঢাকার নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত; উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত

থামছে না পাহাড়ে বানভাসিদের কান্না

চারদিকে থই থই পানি। ছড়া-খাল আর নদী পরিণত হয়েছে সমুদ্রে। বৃষ্টি অব্যাহত আছে। নামছে পাহাড়ি ঢল। উজানের স্রোতে ভেসে গেছে বাড়িঘর। পাকা ফলসহ ডুবে আছে ফসলি জমি। খামার ডুবে যাওয়ায় হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল এখন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। বানের পানিতে চোখের সামনে তছনছ হয়ে গেছে সীমান্তবর্তী মানুষের লালিত স্বপ্ন। এমন চিত্র বিরাজ করছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলায়। সব হারিয়ে দিশেহারা ওইসব উপজেলার মানুষ। চোখের সামনে এত ক্ষতি সইতে পারছেন না তারা। দরিদ্র পরিবারগুলোর কান্না যেন থামছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা নদীপথে। এসব উপজেলার বেশিরভাগ মানুষের বসতি নদীতীরবর্তী এলাকায়। তাই প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বন্যাকবলিত হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার মানুষ। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ৩০টি গ্রামের ২ হাজার ৩৬৬ জন মানুষ। তাদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে প্রায় ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র। একই অবস্থা অপর দুই উপজেলা বিলাইছড়ি ও বরকলেও। বিলাইছড়িতে খোলা হয়েছে ৪টি আশ্রয়কেন্দ্র। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে ১৮৩ জন। এছাড়া বরকলে খোলা হয়েছে ৩টি আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানেও মানুষ আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১৫২ জন।

বানভাসিদের সহযোগিতায় এরই মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ, রাঙামাটির জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠন। এছাড়া বানভাসিদের পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা দিতে বিশেষ চিকিৎসক দল গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন।

রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৪৪৪ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আছে, তাদের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া বিলাইছড়ির বানভাসিদের জন্য ২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১৮৩ জনকে তিন বেলা খাবার প্রদান করা হচ্ছে। আর বরকলে ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫২ জন আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যায় পানিবন্দিদের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved Meherpur Sangbad © 2025