শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
মো: শরিফ উদ্দিন সাউথ আফ্রিকা থেকে:
বৃদ্ধ মায়ের একটাই আকুতি ছিল জীবনের এই শেষ সময়ে যেন চার ছেলেকে একসাথে পাশে নিয়ে একটি ঈদ উদযাপন করতে পারেন।
বছরের পর বছর সন্তানেরা প্রবাসে থাকায় মা, ভাই-বোনদের একসাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়ে ওঠেনি। তাই মায়ের সেই আবেগঘন অনুরোধে সাড়া দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী রুহুল আমিন দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আগামী শনিবার তার ফ্লাইট। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—রুহুল আমিন আর জীবিত ফিরছেন না। তিনি ফিরছেন লাশ হয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ ওয়েস্ট সাউথের ফ্রাইব্রাক অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রাহুল (৪৮) ব্রেইন স্ট্রোকে করে মৃত্যু বরণ করেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটা এবং দোকানের মালামাল ক্রয় করতে জোহানেসবার্গ শহরের একটি দোকানে ঢুকলে স্টোক করে রুহুল আমিন। দোকানদার দ্রুত পাশের ক্লিনিকে তাকে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসক তাকে স্থানান্তর করলে জোহানসবার্গের নেটকেয়ার গার্ডেন সিটি হাসপাতালে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২০ মে) সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরহুম রুহুল আমিন মেহেরপুর জেলার সদর থানার পৌরসভা কোর্ট রোড় ৯নং ওয়ার্ড মরহুম মাওলানা আনসার আলীর বড় ছেলে। ২ বোন ৪ ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। দেশে তার মা, স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। সে প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা বসবাস করে আসছিলেন। ফ্রাইব্রাক অঞ্চল থেকে জোহানসবার্গ সাড়ে চারশত কিলোমিটার দুরে। প্রতিমাসে এক-দুইবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল ক্রয় করতে জোহানসবার্গ শহরে আসতেন।
রুহুল আমিন এবং তার মেজো ভাই বানিয়ামিন দক্ষিণ আফ্রিকা একসাথে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন। দেশে এক ভাই গিয়ে ফিরে আসলে আর এক ভাই দেশে যেতেন। বর্তমানে বানিয়ামিন দেশে রয়েছে। সেজো ভাই কোরিয়া থেকে দেশে আসে। ছোট ভাই বাংলাদেশে রয়েছে। বৃদ্ধ মায়ের অনুরোধ ৪ ভাই একসাথে যেন এবার মায়ের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করে। রুহুল আমিন গত বছর নভেম্বরে দেশ গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ফিরে আসলেও মায়ের অনুরোধে আবার দেশে যেতে টিকেট কেটেছেন। আগামী ৩ দিন পর শনিবার ২৪ মে দুপুর ১টা ৩০মিনিটে ছিল তার ফ্লাইট। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। জীবিত অবস্থায় তাকে আর দেশে ফেরা হলো না। দেশে ফিরতে হচ্ছে তাকে লাশ হয়ে।
যে মা সন্তানের মুখ দেখে ঈদের আনন্দ খুঁজছিলেন, সেই মাকেই এখন বরণ করতে হবে সন্তানের নিথর দেহ। এমন বেদনা কোনো ভাষায় প্রকাশ করার নয়।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশিদের প্রিয় সংগঠন, ইসলামিক ফোরাম অব আফ্রিকা’র পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ আলী আকবর এবং মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মরহুম রুহুল আমিনের জানাযা বৃহস্পতিবার বাদ যোহর ফোডসবার্গের মেফেয়ার জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং আগামীকাল তার মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মেজো ভাই বানিয়ামিন।
আল্লাহপাক রুহুল আমিনের জীবনের ভুলগুলো ক্ষমা করে জান্নাত নসিব করুন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন।