বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা যেন বাস্তবে, বাথরুমে আটকে ছিল শিশু ‘হিটলারের প্রশংসা’ করে বক্তৃতা, আজহারীর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া সাবেক মন্ত্রীর ভাই মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক কলম্বিয়ার সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ মরদেহ উদ্ধার ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আটক ৪৪ তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য: মেহেরপুর জেলা ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা আমঝুপিতে মউক এর প্রধান কার্যালয়ে তালা ভেঙে চুরি গাংনী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটি  আবারও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব রাস্তা ও মসজিদ ত্যাগ না করার আহ্বান আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতির

ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা যেন বাস্তবে, বাথরুমে আটকে ছিল শিশু

বিকাল ৪ টা বিদ্যালয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেছে। বিদ্যালয়ে সকলে বের হয়ে গেলেও বাথরুমে আটকা পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর সাদিয়া নামের এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

আটকে থাকার কয়েক ঘন্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক এঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়।
ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও, আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved Meherpur Sangbad © 2025