বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের (র্যাবিস) ভ্যাকসিন না থাকায় কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।
কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ জানান, আজ থেকে ১৬ দিন আগে একটি ক্ষ্যাপা কুকুর তার পায়ে কামড় দেয়। পরে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য তিনি মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে গেলে কর্মরত চিকিৎসকরা তাকে জানান, সরকারি ভাবে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই।
পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তিনি কুষ্টিয়ার একটি ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে যখন ভ্যাকসিন নেই, তখন ফার্মেসিগুলো কীভাবে এই ভ্যাকসিন পাচ্ছে এটাই আমার প্রশ্ন।
গাংনী উপজেলার কাথুলী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ভাবিরন নেছা জানান, একই গ্রামের মৃত রজব মালিথার স্ত্রী মহিলা খাতুন এবং কাসরুল ইসলামের এক শিশুপুত্রকেও ক্ষ্যাপা কুকুর কামড় দেয়। তাদের পরিবারের লোকজন মেহেরপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, সরকারি ভাবে ভ্যাকসিনের কোনো সরবরাহ নেই।
পরে গ্রামের এক ইউপি সদস্যের আর্থিক সহযোগিতায় বাইরে থেকে ফার্মেসি থেকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে তাদের দেওয়া হয়। ভাবিরন নেছা আরও বলেন, অনেক অসহায় পরিবার ভ্যাকসিন কিনতে না পারায় এখনো মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিনের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল আজিজ জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ভ্যাকসিনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ভ্যাকসিন না থাকায় কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা বর্তমানে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
সুত্র :মেহেরপুর প্রতিদিন